পরকীয়া সন্দেহে জোড়া খুন, উত্তরপ্রদেশে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে স্বামীসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

পরকীয়া সন্দেহে জোড়া খুন, উত্তরপ্রদেশে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে স্বামীসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় চার বছর আগে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহে স্ত্রীকে এবং তাঁর এক আত্মীয়কে নৃশংসভাবে হত্যার অপরাধে অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর এবং দেওরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। একইসঙ্গে দণ্ডিত তিনজনের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। গত ২০২২ সালে এতমাদপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড সে সময় গোটা রাজ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি গৌরবের সঙ্গে সাইয়ান এলাকার খিড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা পূজার বিয়ে হয়েছিল। শিবম সিসোদিয়া নামে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় মাঝেমধ্যেই পূজাদের বাড়িতে আসতেন। পূজা ও শিবমের এই ঘনিষ্ঠতা গৌরবের পরিবার মেনে নিতে পারেনি। তাঁদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে— এমন সন্দেহ থেকেই দানা বাঁধে চরম আক্রোশ। এর পরিণতি হিসেবেই নেমে আসে মর্মান্তিক বিপর্যয়।

ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৭ মে দুপুরে শিবম যখন পূজার সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাড়িতে যান, তখনই ওত পেতে থাকা গৌরব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ধরে ফেলে। বাড়ির বাইরে টেনে এনে গৌরব, তাঁর বাবা মদন এবং ভাই অভিষেক লাঠি দিয়ে দুজনকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। উন্মত্ত আক্রোশে গৌরব শিবমের ওপর মাত্র এক মিনিটে ২২ বার হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর অত্যন্ত নৃশংসভাবে পূজা ও শিবমের গলা কেটে তাঁদের হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের এই ভয়াবহ ঘটনার পর গৌরব তাঁর স্ত্রীর নিথর দেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা ও ভাই স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত এই মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষী এবং সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার পর আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য এবং সমাজের জন্য এক কলঙ্কজনক দৃষ্টান্ত।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর বিশেষ আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির আদেশ শোনাল। যদিও নিম্ন আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন। আগ্রার এই নৃশংস ঘটনার বিচার বিভাগীয় রায়ে স্থানীয় জনমানসে স্বস্তি ফিরলেও, অহেতুক সন্দেহের জেরে দুটি প্রাণ অকালে ঝরে পড়ার ঘটনায় এখনও শোকের ছায়া কাটেনি এলাকা থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *