পরমাণু শক্তিতে ভারতের বিশাল সাফল্য, কালপক্কমে পিএফবিআর রিয়্যাক্টরে উৎপাদন শুরু

পরমাণু শক্তিতে ভারতের বিশাল সাফল্য, কালপক্কমে পিএফবিআর রিয়্যাক্টরে উৎপাদন শুরু

ভারতের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো। তামিলনাড়ুর কালপক্কমে অবস্থিত দেশের সবথেকে উন্নত ‘প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর’ (PFBR) সোমবার সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে রিয়্যাক্টরটিতে নিরবিচ্ছিন্ন পরমাণু বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হলো, যা বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে একটি চূড়ান্ত ধাপ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সাফল্যকে ভারতের পরমাণু গবেষণার যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রিয়্যাক্টরটি দেশের পরমাণু কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের পথ প্রশস্ত করল। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ভারতের বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

পরমাণু বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্রিটিক্যালিটি’ হলো এমন একটি পর্যায়, যেখানে রিয়্যাক্টরের ভেতর উৎপাদিত নিউট্রন সংখ্যা কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শক্তি উৎপাদন চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। যদিও এটি পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, তবে একটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল করার ক্ষেত্রে এটিই সবথেকে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সোপান।

৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই সোডিয়াম-কুলড ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টরটি তৈরি করতে দুই দশকেরও বেশি সময় লেগেছে। ভারতীয় পরমাণু বিজ্ঞানীদের কাছে এটি ছিল এক বিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ ভারতের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সক্ষমতার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালপক্কমের এই প্রকল্পটি ভারতীয় নাভিকীয় বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (BHAVINI) দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের (IGCAR) তত্ত্বাবধানে এবং পরমাণু শক্তি বিভাগের অধীনে এই কেন্দ্রের পরিচালনা সম্পন্ন হবে। এই সাফল্যের ফলে ভারত এখন বিশ্বের সেই হাতেগোনা দেশগুলোর তালিকায় নাম লেখাল, যাদের কাছে উন্নত ফাস্ট ব্রিডার প্রযুক্তি রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *