পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিজেপিকে শর্তসাপেক্ষ সবুজ সংকেত দিল হাইকোর্ট

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় স্বস্তি পেল গেরুয়া শিবির। বিজেপির ঘোষিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে এই অনুমতি অবাধ নয়, বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ অনুযায়ী একগুচ্ছ কঠিন শর্ত মেনেই রাস্তায় নামতে পারবে রাজ্য বিজেপি।
আদালতের বেঁধে দেওয়া প্রধান শর্তাবলি
হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনোভাবেই যাত্রায় এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। ১ মার্চ থেকে ৬ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে কর্মসূচি। এছাড়া শব্দবিধি কড়াভাবে পালন করার পাশাপাশি কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বা কুরুচিকর মন্তব্য করা যাবে না বলেও সতর্ক করেছে আদালত। ট্র্যাফিক সচল রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রাখা এবং অন্তত ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের তালিকা আগেভাগে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা পরিষ্কার করার দায়িত্বও নিতে হবে আয়োজকদের।
রাজ্যের আপত্তি ও বিজেপির পরিকল্পনা
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এই কর্মসূচির তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছিলেন, এতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। যদিও আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মোট ৯টি ভিন্ন রুট দিয়ে এই যাত্রা পরিচালিত হবে। কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি সহ একাধিক প্রান্ত থেকে শুরু হবে এই মেগা কর্মসূচি। দোল উৎসবের জন্য ৩ ও ৪ মার্চ বিরতি থাকলেও ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ব্রিগেডেই মেগা ফিনালে
বিজেপির এই বিশাল কর্মসূচির আওতায় থাকছে ৬০টি বড় জনসভা এবং প্রায় ৩০০টি ছোট সভা। কলকাতার ২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য থাকছে বিশেষ ট্যাবলো। সবশেষে মার্চ মাসে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেগা জনসভার মাধ্যমেই এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সমাপ্তি ঘটবে বলে জানানো হয়েছে।