পশ্চিমবঙ্গে ধৃত হাদি হত্যার দুই মূল অভিযুক্ত, সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে আশ্রয়ের অভিযোগে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই মূল অভিযুক্তকে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। ধৃতদের নাম ফয়জল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে গুয়াহাটি ও শিলিগুড়ি হয়ে বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিল। সেখান থেকে পুনরায় বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে তারা।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, ভিনদেশের অপরাধীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের মতে, দুই বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির মিল থাকার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই এ রাজ্যে গা ঢাকা দিতে পারছে। তবে রাজ্যের শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে পুলিশি তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ওসমান হাদির মতো ব্যক্তিত্বের খুনিরা কীভাবে একাধিক রাজ্য পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত জারি রেখেছে এসটিএফ। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে দুই দেশের পুলিশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে এনেছে।