পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জল্পনা ও কেন্দ্রের ‘পরোক্ষ’ নিয়ন্ত্রণ
.jpeg.webp?w=640&resize=640,478&ssl=1)
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করলে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিকল্প শাসনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আদালতের রায়ই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
বর্তমানে সরাসরি ধারা ৩৫৬ প্রয়োগ না করেও রাজ্যপালদের সক্রিয়তা এবং ইডি, সিবিআই বা এনআইএ-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির তৎপরতায় অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রের একপ্রকার ‘পরোক্ষ শাসন’ পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের রদবদল নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছেন। এছাড়া, রাজ্যগুলির আর্থিক ক্ষমতা খর্ব করা এবং জিএসটির লভ্যাংশ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে রাজ্যপালের ভূমিকা এবং সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজভবন এখন কেন্দ্রের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে দুর্বল করছে। আইন ও সাংবিধানিক বিধির দোহাই দিয়ে কেন্দ্রের এই ক্রমবর্ধমান খবরদারি পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।