পশ্চিমবঙ্গে শেষ হল এসআইআর প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল ৯১ লক্ষ নাম

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড়সড় রদবদল ঘটে গেল। রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তের পর এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ পায়, যা রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, মোট ৬০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬৭৫টি মামলা বিচারবিভাগীয় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২টি ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ই-স্বাক্ষর করেছেন। তদন্তের ভিত্তিতে মোট ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারকে বাদ দেওয়ার যোগ্য বলে গণ্য করা হয়। এর ফলে তালিকায় মোট কর্তনকৃত ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে গত নভেম্বর মাসে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। ডিসেম্বরের খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল এবং ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকায় সেই সংখ্যা ৬৩ লক্ষে পৌঁছায়। তবে বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে এই পরিসংখ্যান প্রায় ৯১ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। বাকি কিছু ক্ষেত্রে ই-স্বাক্ষর বাকি থাকায় এই সংখ্যা সামান্য বাড়তে পারে।
জেলা ভিত্তিক তথ্যে দেখা গিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মুর্শিদাবাদে। এই জেলা থেকে রেকর্ড ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপরই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদহ জেলা। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ এবং মালদহে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে।
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। ভোটাররা চাইলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যজুড়ে ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা যথাযথ তথ্যপ্রমাণ সহ সেখানে নিজেদের নাম পুনর্বহালের দাবি জানাতে পারবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে বড় ধরনের রদবদল নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আপিল প্রক্রিয়ায় কতজন ভোটারের নাম তালিকায় ফিরে আসে এবং চূড়ান্ত পরিসংখ্যান কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।