পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা: জয়শঙ্কর-আরাঘচি ফোনালাপে গুরুত্ব পেল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। গত ১১ দিনে এটি দুই নেতার তৃতীয় কথোপকথন, যেখানে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আলোচনায় আরাঘচি সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা প্রশমনে ভারতের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এই আলোচনায় তেহরান ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারত জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো শান্তি ও সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের সমাধান করা। এদিকে, ইরানি পক্ষ গত ১ মার্চ ভারতীয় বন্দরে তিনটি জাহাজ নোঙর করার অনুমতি পেয়েছে, যা দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতারই ইঙ্গিত দেয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে সমদূরত্ব বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। তেহরানও ভারতের এই অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারে নয়াদিল্লির প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উভয় দেশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে সম্মত হয়েছে। বর্তমান সংকটে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং যুদ্ধের প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখাই এখন ভারতের অগ্রাধিকার।