পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত: জ্বালানি সংকট এড়াতে বিকল্প উৎসের সন্ধানে ভারত

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত: জ্বালানি সংকট এড়াতে বিকল্প উৎসের সন্ধানে ভারত

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের তেল আমদানিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভারত সরকার ও দেশীয় তৈল শোধনাগারগুলি বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া, আমেরিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

বর্তমানে ভারত তার তেলের চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ ডলারে পৌঁছেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ভারত এখন হরমুজ প্রণালীর পরিবর্তে অন্য সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে। গত এক সপ্তাহে আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে পশ্চিম এশিয়ার বাইরের দেশগুলো থেকে। পাশাপাশি, আমেরিকা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ায় সমুদ্রপথে থাকা রুশ তেল সংগ্রহের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হয়েছে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ১৪ কোটি ৪০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রাখা হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এছাড়া ভারতের মোট ৭৪ দিনের জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ হতে চলা শোধনাগারগুলোর কাজ আপাতত স্থগিত রেখে উৎপাদন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও বিকল্প বাজার ও কৌশলগত মজুতের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেষ্ট ভারত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *