পশ্চিম এশিয়া সংকটের জেরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রুখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে মোকাবিলা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি (সিসিএস)-র এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই বৈঠকে কৃষি, সার, জ্বালানি ও বিমান চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে এলপিজি এবং এলএনজি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনা এবং জ্বালানি শুল্ক কমানোর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপে।
প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। খরিফ ও রবি মরসুমে সারের পর্যাপ্ত যোগান বজায় রাখতে এবং ইউরিয়া উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিএপি ও এনপিকেএস সারের জন্য বিদেশি সরবরাহকারীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে রাজ্যগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। জানানো হয়েছে যে, আগামী মাসগুলোর চাহিদা মেটানোর জন্য দেশে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করেছেন যে, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে সরকারের প্রতিটি বিভাগকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ানো রোধ করতে সঠিক তথ্য সময়মতো জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
এদিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। গত ২২ মার্চের বৈঠকের সিদ্ধান্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি রপ্তানি, জাহাজ চলাচল এবং লজিস্টিকস খাতের সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের ওপর এই বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।