পশ্চিম এশিয়া সংঘাতে আড়ালে হাসছেন পুতিন, দাবি ইইউ-র

ইরান বনাম আমেরিকা ও ইজরায়েল যুদ্ধে কোনো পক্ষে না থেকেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘আসল বিজয়ী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। গত ১১ মার্চ ব্রাসেলসে এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে মস্কো অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার জ্বালানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া ক্রেমলিনের কোষাগার পূর্ণ করতে সাহায্য করছে।
এই যুদ্ধের ফলে পুতিনের সামনে একাধিক লাভের পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রথমত, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে রাশিয়ার ‘উরাল ক্রুড’ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার পুনরায় চাঙ্গা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আমেরিকার মনোযোগ এখন পশ্চিম এশিয়ার দিকে সরে যাওয়ায় ইউক্রেন ফ্রন্টে কিভের ওপর আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে রুশ ফৌজ। ওয়াশিংটনের সামরিক সাহায্য ইউক্রেনের বদলে ইজরায়েলের দিকে ঘুরে যাওয়ায় জেলেনস্কির বাহিনী বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, ইরানকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে রাশিয়া বিপুল মুনাফা অর্জনের পরিকল্পনা করছে। তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা থাকায় যুদ্ধের এই আবহে অস্ত্র বিক্রি করে মস্কো নিজের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে। তবে ইজরায়েলের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করা পুতিনের জন্য ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুতিন কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।