পাঁচবারের ব্যর্থতা কাটিয়ে ইউপিএসসি জয় সৃষ্টি গোয়েলের অদম্য লড়াইয়ের অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী

ইউপিএসসি পরীক্ষার কঠিন লড়াইয়ে জয়ী হওয়া কেবল একটি চাকরির প্রাপ্তি নয়, বরং ধৈর্য এবং ত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের মেয়ে সৃষ্টি গোয়েল অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ১৬০ অর্জন করে প্রমাণ করেছেন যে, লক্ষ্য স্থির থাকলে বারবার হোঁচট খেয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। এক সাধারণ ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হয়েও সৃষ্টির এই যাত্রাপথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ, যা আজ হাজারো পরীক্ষার্থীর কাছে আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় থেকেই সৃষ্টির মনে সমাজসেবার ইচ্ছা দানা বাঁধে। একটি এনজিও-র সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর সিভিল সার্ভিসের স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে তোলে। তিনি অনুভব করেন যে, আমলাতন্ত্রের অংশ হয়েই সমাজের বৃহত্তর পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে এই যাত্রাপথ সহজ ছিল না। দীর্ঘ পাঁচ বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম ও কৃচ্ছ্রসাধন ছিল তাঁর এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।
সৃষ্টির এই লড়াই মূলত ছিল নিজের ধৈর্যের পরীক্ষা। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর দমে না গিয়ে তিনি নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি তিনবার মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্টারভিউ রাউন্ডে পৌঁছানোর পরও চূড়ান্ত তালিকায় নাম না আসায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতাকে তিনি পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর মতে, সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়, বরং একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া যা মানুষকে প্রতিনিয়ত পরিপক্ক ও শক্তিশালী করে তোলে।
সৃষ্টির এই জয়গান আজ সেই সমস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণ, যারা প্রাথমিক ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ে। তাঁর জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো হলো লক্ষ্যে অটল থাকা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নিজের ক্ষমতার ওপর অগাধ আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা। আজ সৃষ্টি গোয়েল কেবল একজন সফল সিভিল সার্ভেন্ট নন, তিনি এক অদম্য মানসিকতার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাঁর এই লড়াইয়ের গল্প আগামী দিনে সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন দেখা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ধ্রুবতারা হয়ে পথ দেখাবে।