পাইন বনের নিস্তব্ধতা আর মেঘেদের লুকোচুরি ডুয়ার্সের নতুন আকর্ষণ ‘পাড়েন’

ডুয়ার্সের জলদাপাড়া বা গরুমারার ভিড় এড়িয়ে নির্জনতার খোঁজে পর্যটকদের নতুন গন্তব্য এখন ভুটান সীমান্তের পাহাড়ি গ্রাম ‘পাড়েন’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই জনপদটি শিলিগুড়ি থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরে জলঢাকা নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত। পাইন, ফার ও দেবদারু গাছে ঘেরা এই শান্ত জনপদ থেকে একদিকে যেমন ভুটান পাহাড়ের রাজকীয় দৃশ্য দেখা যায়, তেমনই অন্যপাশে ডুয়ার্সের সবুজ সমতল নজর কাড়ে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য পাড়েন এক অনন্য স্বর্গরাজ্য। এখান থেকে পর্যটকরা সহজেই জলঢাকা জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিন্দু ও ঝালং ঘুরে দেখতে পারেন। যারা রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাদের জন্য রাচেলা পাসের ট্রেকিং রুট এবং পাখি দেখার সুযোগ রয়েছে। শীতকালে এই অঞ্চলের কমলালেবুর বাগানগুলো বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে। থাকার জন্য এখানে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের কটেজ ছাড়াও স্থানীয় আতিথেয়তা সমৃদ্ধ বেশ কিছু আধুনিক হোমস্টে গড়ে উঠেছে।
বর্ষা বাদে বছরের যেকোনো সময় পাড়েন ভ্রমণ করা যায়, তবে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবহাওয়া সবথেকে মনোরম থাকে। নিউ মাল জংশন বা এনজেপি থেকে সরাসরি গাড়ি ভাড়া করে চালসা ও ঝালং হয়ে এখানে পৌঁছানো সম্ভব। শহরের ব্যস্ততা কাটিয়ে নির্জনতায় কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে অফবিট পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পাড়েন বর্তমানে ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে।