পাকিস্তানের ডেরায় ঢুকে খতম আতঙ্কবাদী! অপারেশন সিন্দুর নিয়ে সেনাপ্রধানের বড় তথ্য ফাঁস

বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত ‘রণ সংবাদ ২০২৬’ সম্মেলনে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী আধুনিক যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং ভারতের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন। তিনি জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’ কেবল একটি সফল সামরিক অভিযানই ছিল না, বরং এটি ভারতের সমন্বিত সামরিক শক্তির এক অনন্য প্রদর্শনী।
২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল পাহলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর পাকিস্তান অধিকৃত অঞ্চলে ভারত এই অভিযান চালিয়েছিল। জেনারেল দ্বিবেদীর মতে, এই অপারেশনটি বর্তমানে সামরিক কৌশলবিদদের কাছে গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সামরিক একীকরণ ও সফলতার নতুন দিগন্ত
সেনাপ্রধানের মতে, অপারেশন সিন্দুর প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমানায় বা একক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়। এই অভিযানের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল:
- বহুমুখী সমন্বয়: স্থল ও বিমানবাহিনীর যৌথ অভিযানের পাশাপাশি নৌবাহিনীর রণকৌশলগত অবস্থান এই মিশনের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
- তথ্যের ব্যবহার: স্থলচর গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্যের সাথে সাইবার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সফল সমন্বয় করা সম্ভব হয়েছিল।
- হিব্রিড যুদ্ধের মোকাবিলা: যুদ্ধের একটি বড় অংশ ছিল মনস্তাত্ত্বিক। সেনাপ্রধান জানান, প্রচার করা বিভ্রান্তিকর তথ্য বা প্রোপাগান্ডা রুখতেই ভারতীয় সেনার ১৫ শতাংশ প্রচেষ্টা ব্যয় হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জ ও হিব্রিড ওয়ারফেয়ার
জেনারেল দ্বিবেদী সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে ‘গ্রে-জোন’ বা হিব্রিড যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। শত্রুপক্ষ অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে প্রথাগত সামরিক সীমার নিচে থেকে দেশের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘মাল্টি-ডোমেইন অপারেশন’ (MDO) অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র আলাদাভাবে নয়, বরং পরিস্থিতির প্রয়োজনে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার
অপারেশন সিন্দুরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বেশ কিছু বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- যুদ্ধ তথ্য সংস্থা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষা বিভাগ গঠন।
- সমন্বিত যুদ্ধ গ্রুপ এবং ‘রুদ্র ব্রিগেড’ তৈরি।
- ড্রোন ইউনিট এবং সাইবার অপারেশন নোড স্থাপন।
- ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কাঠামোর আধুনিকায়ন।
একঝলকে
- প্রেক্ষাপট: পাহলগাম হামলায় ২৬ পর্যটকের মৃত্যুর প্রতিবাদে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালিত হয়।
- মূল সাফল্য: স্থল, আকাশ ও নৌবাহিনীর মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক প্রয়োগ।
- নতুন কৌশল: প্রোপাগান্ডা রুখতে ১৫ শতাংশ মনোযোগ দিয়ে মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।
- লক্ষ্য: মাল্টি-ডোমেইন অপারেশনের মাধ্যমে হিব্রিড ও গ্রে-জোন যুদ্ধ মোকাবিলা করা।
- আধুনিকায়ন: ড্রোন ইউনিট এবং স্পেশাল সাইবার অপারেশন নোডের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি।