পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় থামল ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ! শশী থারুরের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় ভারত

ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ভারতকে চিন্তিত করার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। প্রায় সওয়া এক মাস ধরে চলা এই সংঘাত পাকিস্তানের ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
থারুরের ইতিবাচক অবস্থান ও ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ
এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শশী থারুর জানান, পাকিস্তান যখন শান্তির জন্য কাজ করছে, তখন ভারতের তা উদ্যাপন করা উচিত। তাঁর মতে, ভারত বরাবরই শান্তি চায় এবং পাকিস্তান যদি সেই লক্ষ্যে সফল হয়, তবে তাতে ভারতের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। থারুর ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ারও প্রশংসা করেছেন। তিনি মনে করেন, ভারত সরকার শান্তিকে স্বাগত জানিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। আঞ্চলিক দায়িত্বশীলতা এবং গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের এই কৌশলগত সংযম অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
কংগ্রেসের কটাক্ষ ও সরকারের কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন
সাংসদ শশী থারুর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশ্বমঞ্চে বিশেষ বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্রিকস-এর সভাপতিত্ব থাকা সত্ত্বেও ভারত কেন এই যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নেই? আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার যে দাবি বর্তমান সরকার করে আসছিল, এই মধ্যস্থতার পর তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিরোধী দল।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের প্রভাব
ইরান ও আমেরিকার মতো বৃহৎ শক্তির সংঘাত দুই সপ্তাহের জন্য হলেও প্রশমিত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। পাকিস্তানের এই ভূমিকা যেমন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের নতুন একটি ভাবমূর্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তেমনি ভারতের জন্য এটি একটি কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণের বিষয়। ভারতের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রভাব বজায় রেখে এই শান্তি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সহায়তা করা।
একঝলকে
- ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।
- পাকিস্তানের ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই মধ্যস্থতা সম্পন্ন হয়।
- কংগ্রেস নেতা শশী থারুর পাকিস্তানের এই শান্তিমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
- জয়রাম রমেশ ভারতের অনুপস্থিতি নিয়ে সরকারকে কটাক্ষ করেছেন।
- ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে।