পাকিস্তানে ঢুকে মারব, হুমকি খোয়াজা আসিফকে, মালদার রোড শো থেকে কেন্দ্রকে তোপ অভিষেকের

পাকিস্তানে ঢুকে মারব, হুমকি খোয়াজা আসিফকে, মালদার রোড শো থেকে কেন্দ্রকে তোপ অভিষেকের

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের কলকাতাকে কেন্দ্র করে দেওয়া হুমকির পাল্টা কড়া জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মালদার হরিশচন্দ্রপুর ও চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক রোড শো থেকে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান প্রতিবেশি দেশটির ওপর। অভিষেক বলেন, “পাকিস্তানে ঢুকে মারব।” এই ইস্যুতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিযোগ করেন, বিদেশের মাটি থেকে ভারতকে হুমকি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নীরব রয়েছেন।

এদিন মালদার জনসভা থেকে অভিষেক সাফ জানান যে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নাম তিনি ডায়েরিতে লিখে রাখছেন। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জাতীয় স্তরে বিকল্প সরকার গঠিত হলে পাকিস্তানের এই আস্ফালনের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সমালোচনা করে বলেন, ভারতের শহরকে হুমকি দেওয়ার পরেও কেন তাঁরা চুপ করে আছেন? দেশের কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং বাহিনীকে বিরোধীদের ওপর ব্যবহার না করে সীমান্তের ওপাড়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিলেন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও। তিনি বলেন, ইরান যখন বড় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন আমাদের দেশের নেতৃত্বের সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা নেই। বিএসএফ এবং সেনাবাহিনীকে পাকিস্তানের লাহোর পর্যন্ত দখল নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হোক। অভিষেক আক্ষেপ করে বলেন যে, বিজেপি সরকার দেশের মানুষকে ‘পাকিস্তানি’ বা ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দেয়, কিন্তু যখন সেই দেশগুলো থেকে প্রকৃত হুমকি আসে, তখন প্রধানমন্ত্রী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন না।

পাকিস্তানের এই হুমকি প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিও নির্বাচনী সভা থেকে প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন কলকাতার ওপর হামলার হুমকি দিচ্ছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী কেন মৌনব্রত পালন করছেন? মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, বাংলাভাষী মানুষদের অনুপ্রবেশকারী বলা বন্ধ করে কেন্দ্রকে আগে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক হুমকির মোকাবিলায় সজাগ হতে হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে পাকিস্তানের এই হুমকি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের কড়া অবস্থান বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মালদার রোড শো থেকে অভিষেকের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সুলভ হুঁশিয়ারি আসলে কেন্দ্রের তথাকথিত জাতীয়তাবাদের পাল্টায় বাংলার মানুষের আত্মসম্মানবোধকে জাগিয়ে তোলার কৌশল। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *