“পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের স্পনসর, ওদের বিশ্বাস করা যায় না!” শান্তি আলোচনার আগে তোপ ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের

ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানকে নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। তার স্পষ্ট দাবি, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক এবং এই রাষ্ট্রটি কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং আসন্ন বৈঠকের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনাস্থা ইসরায়েলের
শুক্রবার ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের প্রাক্কালে রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার পাকিস্তানের অতীত কর্মকাণ্ডকে সামনে এনেছেন। তার মতে, পাকিস্তান সরাসরি সন্ত্রাসবাদকে স্পনসর করে, তাই তাদের ওপর আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই। তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল তাদের বন্ধু রাষ্ট্র আমেরিকার ওপর ভরসা রাখছে এবং বিশ্বাস করে যে তারা পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারবে।
আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপট
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আমেরিকা ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আলোচনার মূল লক্ষ্যগুলো হলো:
- চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে আরও শক্তিশালী করা।
- স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করা।
- ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা, যার মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি এবং হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
গভীর অবিশ্বাস ও নিরাপত্তার সংকট
এই আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক ফলের আশা থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাসের পাহাড় জমে আছে। বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। উল্লেখ্য যে, যখন আলোচনার প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক সেই সময় ২৮ মার্চ আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছিল, যা ইরানের মধ্যে ক্ষোভ ও সংশয় তৈরি করেছে। এবারের বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
প্রভাব ও ভূ-রাজনীতি
ইসরায়েলের এই সরাসরি বিরোধিতা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা তারা সহজভাবে নিচ্ছে না। ইরান যেখানে তাদের ১০ দফা দাবিতে অনড়, সেখানে ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইসলামাবাদের বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
একঝলকে
- ঘটনা: ইসলামাবাদে আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠকের আয়োজন।
- ইসরায়েলের অবস্থান: পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক আখ্যা দিয়ে অবিশ্বাসের বার্তা।
- মার্কিন প্রতিনিধি: আলোচনার নেতৃত্বে থাকছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
- ইরানের দাবি: শান্তি স্থাপনে ১০ দফা পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছে তেহরান।
- মূল চ্যালেঞ্জ: উভয় পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান গভীর রাজনৈতিক অবিশ্বাস ও সাম্প্রতিক হামলা।