পাক সেনার অন্দরে ভারতের ব্ল্যাক টাইগার! শত্রুসেনার মেজর হয়েও যেভাবে দেশের জন্য লড়েছিলেন রবীন্দ্র কৌশিক

পাক সেনার অন্দরে ভারতের ব্ল্যাক টাইগার! শত্রুসেনার মেজর হয়েও যেভাবে দেশের জন্য লড়েছিলেন রবীন্দ্র কৌশিক

পাকিস্তানের বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ভারতের এই দুর্ধর্ষ স্পাই! পর্দার ‘ধুরন্ধর’ নয় বরং রক্তমাংসের এক রিয়েল লাইফ হিরোর গল্প এটি। রাজস্থানের সাধারণ এক যুবক থেকে পাকিস্তান সেনার দাপুটে মেজর হয়ে ওঠা— রবীন্দ্র কৌশিকের জীবন যেন হার মানায় যেকোনো বলিউড থ্রিলারকেও।

থিয়েটার থেকে র-এর আঙিনায়

১৯৫২ সালে রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরে জন্ম নেওয়া রবীন্দ্র কৌশিক ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অভিনয়ের জাদুকর। লখনউয়ের এক নাট্য প্রতিযোগিতায় তাঁর তুখোড় অভিনয় নজর কাড়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর কর্মকর্তাদের। মাত্র ২৩ বছর বয়সে শুরু হয় কঠোর প্রশিক্ষণ। উর্দু ভাষা, ইসলামি ধর্মতত্ত্ব এবং পাকিস্তানের ভৌগোলিক জ্ঞান আয়ত্ত করে তিনি হয়ে ওঠেন ‘নবি আহমেদ শাকির’।

শত্রু শিবিরে দাপট

১৯৭৫ সালে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন তিনি। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাস করে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। নিজের মেধা আর দক্ষতায় দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান ‘মেজর’। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের পরমাণু ঘাঁটি থেকে শুরু করে সেনার গতিবিধি— সব গোপন তথ্য ভারতের হাতে পৌঁছে দিতেন তিনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে নাম দিয়েছিলেন ‘ব্ল্যাক টাইগার’

এক ভুলের চড়া মাসুল

সাফল্যের শিখরে থাকা অবস্থায় এক জুনিয়র গুপ্তচরের ভুলে ধরা পড়ে যান রবীন্দ্র। ১৯৮৩ সালে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা তাঁকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ১৫ বছর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেও তিনি নিজের ভারতীয় পরিচয় বা দেশের গোপন তথ্য ফাঁস করেননি। জেল থেকেই চিঠিতে লিখেছিলেন, “ভারত কি আমার মতো লোকেদের এই কদর দেয়?”

অজানা কবরে শেষ বিদায়

২০০১ সালে পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি জেলে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয় এই বীরের। কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই জেলের পেছনে এক অজ্ঞাত কবরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। সেলুলয়েডের ‘ধুরন্ধর’রা হাততালি কুড়োলেও, রবীন্দ্র কৌশিকের মতো আসল নায়করা আজও ইতিহাসের পাতায় অনেকটা আড়ালেই থেকে গেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *