পাথরির ব্যথার চিকিৎসা করাতে এসে প্রসব, স্বামী স্ত্রীর বিবাদ ঘিরে চরম উত্তেজনা

পাথরির ব্যথার চিকিৎসা করাতে এসে প্রসব, স্বামী স্ত্রীর বিবাদ ঘিরে চরম উত্তেজনা

উত্তরপ্রদেশের এটার মেডিকেল কলেজে পাথরির ব্যথার চিকিৎসা করাতে এসে এক নারীর সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার গভীর রাতে প্রায় ২টার সময় এক নারীকে অসহ্য পেটে ব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে আনা হয়। চিকিৎসকরা পেটের আকার দেখে গর্ভাবস্থার কথা জিজ্ঞেস করলে ওই নারী তা অস্বীকার করেন। এরপর ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শৌচাগারে গিয়ে তিনি এক পুত্রসন্তান প্রসব করেন।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে থাকা ওই নারীর স্বামী চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হাঙ্গামা শুরু করেন। তার দাবি, তিনি গত এক বছর ধরে কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফলে স্ত্রী কীভাবে গর্ভবতী হলেন এবং কেন বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখা হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। জরুরি বিভাগ থেকে প্রসূতি বিভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই অশান্তি চলে। ওই নারী ইতিমধ্যে ছয় সন্তানের জননী বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব হওয়ায় নবজাতকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগ্রায় রেফার করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। প্রসূতি রোগ বিভাগের প্রধান চিকিৎসক জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রসূতিকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার কথা থাকলেও স্বামীর চরম জেদ ও হাঙ্গামার কারণে সোমবার সকালে প্রয়োজনীয় নথিপত্রে সই করিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই নজিরবিহীন ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থার বিষয়টি গোপন রাখা এবং যথাযথ প্রাক-প্রসব যত্ন না পাওয়ায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। পারিবারিক বিবাদ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত এই জটিলতা নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *