পাথর ভাঙা থেকে পুলিশের উচ্চপদ সন্তোষ প্যাটেলের, ডিএসপি হওয়ার হার না মানা লড়াই

কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে আসাম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন মধ্যপ্রদেশের তরুণ সন্তোষ প্যাটেল। এক সময় পেটের তাগিদে যাঁকে পাথর ভাঙতে বা জঙ্গল থেকে তেন্ডু পাতা সংগ্রহ করতে হতো, আজ তিনি মধ্যপ্রদেশ পুলিশ সার্ভিসের একজন গর্বিত ডিএসপি। অভাবের সংসারে বড় হওয়া সন্তোষের এই সাফল্যের কাহিনি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং হাজারো চাকরিপ্রার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পান্না জেলার অজয়গড় তহসিলের বাসিন্দা সন্তোষ ছোটবেলা থেকেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। পড়াশোনার ফাঁকে পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করতে তিনি পাথর ভাঙার কাজ থেকে শুরু করে বর্ষাকালে চারা রোপণের কাজও করেছেন। তবে শত প্রতিকূলতাও তাঁর মেধার পথে বাধা হতে পারেনি। দশম শ্রেণিতে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন তিনি। পরবর্তীতে ভোপাল থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে তিনি লক্ষ্য স্থির করেন সরকারি আমলা হওয়ার।
নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সন্তোষ এতটাই কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, সাফল্য না পাওয়া পর্যন্ত দাড়ি না কাটার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম জীবনে ফরেস্ট গার্ড হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়। অবশেষে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় এমপি-পিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ডিএসপি পদ অর্জন করেন। বর্তমানে গোয়ালিয়রে এসডিওপি হিসেবে কর্মরত সন্তোষ প্রমাণ করেছেন যে, সততা ও পরিশ্রম থাকলে দারিদ্র্য কখনও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।