জলহাটির হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মমতার নিশানায় কে? ‘যতই ছলনা হোক’ মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

পানিহাটির হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মমতার নিশানায় কে? ‘যতই ছলনা হোক’ মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর ২৪ পরগনার জলহাটি এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ, অন্যদিকে বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। এই প্রেক্ষাপটে আগরপাড়ার প্রচার মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কারও নাম না নিলেও ‘ছলনা’ ও ‘নাটক’ শব্দবন্ধ ব্যবহারে প্রতিপক্ষকে বিঁধেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধিকার ও সংস্কৃতি রক্ষার ডাক দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে যতই নাটক বা ছলনা করুক, একটা কথা বলবেন— ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ।” একইসঙ্গে দলীয় কর্মীদের সৌজন্যের সীমারেখা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান যে, তিনি কাউকে ব্যক্তিগত কটূক্তি করবেন না। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের লক্ষ্য যে বিজেপি প্রার্থী, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে।

সম্প্রতি প্রচারে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি ‘প্রাণনাশের হুমকি’ ও ‘কুরুচিকর ভাষা’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর রবিবারের ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আবেগকে হাতিয়ার করে ভোট পাওয়ার চেষ্টাকে তিনি ‘ছলনা’ হিসেবেই দেখছেন।

অন্যদিকে, পালটা সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরও। তাদের দাবি, মানুষের আবেগ ও সত্যকে ধামাচাপা দিতেই এখন তৃণমূল ‘সৌজন্যে’র দোহাই দিচ্ছে। সব মিলিয়ে জলহাটির লড়াই এখন আর কেবল দুই প্রার্থীর সীমাবদ্ধ নেই, তা ব্যক্তিগত আক্রমণ বনাম রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক জটিল রূপ নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত জলহাটির মানুষ আবেগের পাশে দাঁড়ান নাকি উন্নয়নের পক্ষে, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *