পাম্পে গ্যাসের আকাল আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে নাজেহাল যাত্রী ও চালকরা কিস্তিতে বাড়ছে অটো ভাড়ার বোঝা

রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় ঘনিয়ে এল তীব্র সংকট। রান্নার গ্যাসের পর এবার অটো এবং অ্যাপ ক্যাব চালানোর জ্বালানি গ্যাসের আকাল দেখা দিয়েছে শহর ও শহরতলিতে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই গড়িয়া, বারুইপুর, টালিগঞ্জ এবং উল্টোডাঙার মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অটোর জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা করতে দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত এলপিজি বা সিএনজি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে।
দক্ষিণ শহরতলির গড়িয়া মহামায়াতলা থেকে শুরু করে সাউথ সিটির পাশের পাম্পগুলোতে অটোর লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। চালকদের অভিযোগ, পাম্পে ঠিকমতো গ্যাস মিলছে না, কোথাও আবার ফুল ট্যাঙ্ক গ্যাস দিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। ফলে ১০ ঘণ্টা গাড়ি চালালে তার মধ্যে ৪ ঘণ্টাই কাটছে গ্যাসের লাইনে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বারুইপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অটো ভাড়া একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। জুলপিয়া বা ক্যানিং রুটে যাতায়াত করতে গিয়ে পকেটে টান পড়ছে সাধারণ মানুষের। যদিও খাতায়-কলমে ভাড়া বৃদ্ধির কথা অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা।
গ্যাসের এই সংকটের মাঝেই মাথাচাড়া দিয়েছে কালোবাজারির অভিযোগ। বারুইপুরের কিছু পাম্পে ৪০ টাকার গ্যাস ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুধু অটো নয়, সংকটে পড়েছেন সিএনজি চালিত অ্যাপ ক্যাব চালকরাও। পাটুলির মতো এলাকায় দুপুরের কড়া রোদে গাড়ির লম্বা লাইনই বলে দিচ্ছে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। একদিকে জ্বালানি অমিল, অন্যদিকে বর্ধিত ভাড়া—সব মিলিয়ে আমজনতার জীবন এখন আক্ষরিক অর্থেই লাইনে দাঁড়িয়েই কাটছে। পাম্প কর্তৃপক্ষগুলোর দাবি, আগামী দু-একদিনের মধ্যে নতুন করে জোগান না এলে পরিষেবা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।