পাশ্চাত্যে বাড়ছে কিশোর চরমপন্থা: ৪২ শতাংশ সন্ত্রাসবাদী তদন্তে জড়িত নাবালকরা

পাশ্চাত্যে বাড়ছে কিশোর চরমপন্থা: ৪২ শতাংশ সন্ত্রাসবাদী তদন্তে জড়িত নাবালকরা

গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে পশ্চিমী দুনিয়ায় সন্ত্রাসবাদের এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সন্ত্রাস-সংক্রান্ত তদন্তের প্রায় ৪২ শতাংশ ক্ষেত্রেই নাবালকদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছে, যা গত তিন বছরে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, চরমপন্থার জালে কিশোর-কিশোরীদের জড়িয়ে ফেলার প্রক্রিয়াটি এখন মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে, যা আগে কয়েক মাস সময় নিত।

রিপোর্ট অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং ছোট ভিডিওর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত মগজ ধোলাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে মানসিক আঘাত, একাকীত্ব বা পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার শিকার কিশোররাই এই অনলাইন প্রচারের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৮৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নাবালকদের অতীতে অবহেলা বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

বর্তমানে ‘লোন উলফ’ বা এককভাবে হামলা চালানোর প্রবণতা ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে নির্দিষ্ট মতাদর্শের চেয়ে বিভ্রান্তিকর উগ্রতাই প্রধান হয়ে উঠছে। যদিও ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নাবালকদের পরিকল্পিত ৯৭ শতাংশ হামলাই রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, তবে এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। প্রশাসন এখন সময়ের আগেই এই নতুন প্রজন্মের চরমপন্থাকে চিহ্নিত করার উপায় খুঁজছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *