পাষণ্ড স্বামীর কাণ্ড! ৪ বছরের খুদে কন্যার বয়ানে প্রকাশ্যে এল মা খুনের রোমহর্ষক সত্য

উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার ছাবনি থানা এলাকায় এক গৃহবধূকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। চৌগড়বা গ্রামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃত গৃহবধূর নাম সীমা প্রজাপতি (৩০)। তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো তথ্য সামনে এনেছে মৃতার ৪ বছরের ছোট্ট মেয়ে। শিশুটির দাবি, তার নিজের বাবাই মায়ের গায়ে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। मासूम কন্যার এই স্বীকারোক্তি বর্তমানে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে চৌগড়বা গ্রামের বাসিন্দা সীমা প্রজাপতি রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর স্বামী রাম সুরত প্রজাপতি তাঁকে দ্রুত বিক্রমজ্যোত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে লখনউয়ের ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তরিত করেন। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিকেল কলেজে সীমার মৃত্যু হয়। এরপরই ঘটনাটি ভিন্ন মাত্রা পায় যখন মৃতার শিশুকন্যা ঘটনার বর্ণনা দিতে শুরু করে।
কান্নায় ভেঙে পড়ে ৪ বছরের ওই শিশুটি জানায়, তার চোখের সামনেই বাবা মায়ের গায়ে তেল ঢেলে দেশলাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। শিশুটির এই বয়ান পুলিশ ও পরিজনদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। এর পরেই মৃতার পরিবারের সদস্যরা রাম সুরতের বিরুদ্ধে খুনের সরাসরি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘকাল ধরেই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চলছিল এবং পরিকল্পিতভাবেই সীমাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
২০১৮ সালের মে মাসে ছাবনি এলাকার কোহল তিওয়ারি গ্রামের বাসিন্দা ভারত প্রজাপতির মেয়ে সীমার বিয়ে হয়েছিল রাম সুরতের সঙ্গে। স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগে থাকত। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুইবার গ্রামে সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল এবং থানায় লিখিত সমঝোতাও হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এত কিছুর পরেও পারিবারিক কলহ থামেনি, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়েই ছাবনি থানার পুলিশ ও ফরেনসিক দল চৌগড়বা গ্রামে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃতার ময়নাতদন্ত লখনউতেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং দহনপ্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। পুলিশের একটি বড় দল বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
সার্কেল অফিসার (সিও) স্বর্নিমা সিং জানিয়েছেন, ৪ এপ্রিল রাত ১১টা নাগাদ ওই মহিলার অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর আসে। লখনউতে চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ৪ বছরের শিশুর বয়ানকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখছে এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।