পাহাড়-ডুয়ার্সে তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধি, জন বারলা ও বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার নয়া সমীকরণ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের মাটি শক্ত করতে কোমর বেঁধে নামছেন বিজেপি ফেরত দুই হেভিওয়েট নেতা জন বারলা ও বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। সম্প্রতি বারলার লক্ষ্মীপাড়া চা-বাগানের বাসভবনে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এই দুই নেতা যৌথভাবে প্রচারের রণকৌশল স্থির করেছেন। একদা গেরুয়া শিবিরের এই দুই সেনাপতি এখন তৃণমূলের উন্নয়নকে হাতিয়ার করে পাহাড় ও সমতলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া।
রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান জন বারলা এবং কার্সিয়াংয়ের প্রভাবশালী নেতা বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা গোর্খা ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিবিড় জনসংযোগের পরিকল্পনা নিয়েছেন। বারলার মতে, বিষ্ণুপ্রসাদের পাহাড়ের নাড়ি নক্ষত্র চেনা এবং উভয়ে মিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের খতিয়ান প্রতিটি দুয়ারে পৌঁছে দেবেন। এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ উত্তরবঙ্গের চা-বলয় থেকে পাহাড়ের খাঁজে শাসকদলের পালে নতুন হাওয়া টানবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অতীতে জন বারলার যে সাংগঠনিক দক্ষতা বিজেপিকে অক্সিজেন দিয়েছিল, বর্তমানে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার সঙ্গে তাঁর এই যুগলবন্দি তৃণমূলের জন্য বড় প্রাপ্তি হতে পারে। বিমল গুরুংয়ের প্রভাবাধীন এলাকায় এই দুই নেতার সক্রিয়তা বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পাহাড় ও ডুয়ার্সের রাজনৈতিক সমীকরণে এই বদল আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।