পিএফ গ্রাহকদের জন্য দারুণ খবর, মিলবে নিখরচায় ৭ লাখ টাকার বীমা কভারেজ

বেসরকারি সংস্থার চাকুরিজীবীদের জন্য এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফও (EPFO) শুধুমাত্র অবসরের সঞ্চয় নয়, বরং পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার এক বড় মাধ্যম। অধিকাংশ কর্মীই প্রতি মাসে তাঁদের মূল বেতন থেকে কত টাকা পিএফ বাবদ কাটা হচ্ছে বা তাতে কত সুদ জমা পড়ছে, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। কিন্তু অনেকেরই অজানা যে, পিএফ অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত থাকে একটি বিশেষ বীমা সুবিধা। ‘এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স’ বা ইডিএলআই (EDLI) স্কিমের অধীনে কর্মীরা কোনো অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ছাড়াই ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত জীবন বীমার সুবিধা পেতে পারেন।
১৯৭৬ সাল থেকে কার্যকর এই ইডিএলআই স্কিমটি মূলত চাকরি চলাকালীন কোনো কর্মীর আকস্মিক মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি ইপিএফ (EPF) অ্যাকাউন্টের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে। ফলে এর জন্য আলাদা কোনো ফর্ম পূরণ বা বাড়তি অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। সংস্থার পক্ষ থেকেই কর্মীর মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার ০.৫ শতাংশ এই বীমা খাতে জমা করা হয়, যার সর্বোচ্চ সীমা মাসিক ৭৫ টাকা।
এই প্রকল্পের আওতায় মৃত কর্মীর মনোনীত ব্যক্তি বা আইনি উত্তরাধিকারী এককালীন আর্থিক সহায়তা পান। ২০২১ সালে এই বীমার সর্বোচ্চ সীমা ৬ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। যদি কোনো কর্মী মৃত্যুর আগে অন্তত ১২ মাস একটানা চাকরিতে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁর নমিনি ন্যূনতম ২.৫ লাখ টাকা নিশ্চিতভাবে পাবেন। এমনকি সার্ভিসের মেয়াদ কম হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকার গ্যারান্টিড রাশি পাওয়ার বিধান রয়েছে এই প্রকল্পে।
বীমার অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় কর্মীর গত ১২ মাসের গড় মাসিক বেতনের ভিত্তিতে। সাধারণত ১২ মাসের গড় বেতনের ৩৫ গুণ এবং তার সাথে বোনাস যোগ করে এই পরিমাণ হিসেব করা হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই এই দাবির পরিমাণ ৭ লাখ টাকার বেশি হবে না। পিএফ কাটে এমন সমস্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক বা নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্মীরা এই বীমা সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হন।
বীমার টাকা দাবি করার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত স্বচ্ছ ও দ্রুত। কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর নমিনি বা উত্তরাধিকারীকে ‘ফর্ম ৫আইএফ’ (Form 5IF) পূরণ করে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সাথে মৃত্যু শংসাপত্র, ব্যাঙ্ক ডিটেইলস এবং পরিচয়পত্রের নথি জমা দিতে হবে। সাধারণত ২০ দিনের মধ্যেই এই ক্লেম সেটল করা হয়। বর্তমানে উমং (UMANG) অ্যাপ বা ইপিএফও পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনেও এই দাবি জানানো সম্ভব।
পেশাগত জীবনে আর্থিক নিরাপত্তার খাতিরে ইডিএলআই স্কিম সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় তথ্যের অভাবে কর্মীর পরিবার এই প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত হন। মনে রাখবেন, এটি কোনো আলাদা পলিসি নয়, বরং আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত একটি আমানত নির্ভর বীমা কভার। কর্মক্ষেত্রে যে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতিতে আপনার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এই ৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা ঢাল হিসেবে কাজ করবে।