পিটার এলবার্সের বিদায় ঘিরে তোলপাড় ইন্ডিগোতে চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন সিইও

দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শীর্ষ পদে বড়সড় রদবদল ঘটল। লাগাতার যাত্রী ভোগান্তি এবং বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র প্রবল চাপের মুখে শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করলেন সিইও পিটার এলবার্স। সোমবার ইন্ডিগোর পরিচালনা পর্ষদ তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। আপাতত সংস্থার অন্তর্বর্তীকালীন সিইও হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল ভাটিয়া।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়া পিটার এলবার্সের জমানায় গত কয়েক মাস ধরেই ইন্ডিগোর পরিষেবা নিয়ে দানা বেঁধেছিল বিতর্ক। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে নজিরবিহীন উড়ান বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সংস্থাটি। তথ্য বলছে, সেই সময় প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ১০ লক্ষ যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন। এর মধ্যে ৯৩ শতাংশই ছিল ইন্ডিগোর যাত্রী। নতুন ডিউটি রোস্টার ও বিশ্রাম সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে অব্যবস্থাপনার জেরে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন।
এই পরিস্থিতির তদন্তে নেমে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং ডিজিসিএ-র চার সদস্যের কমিটি সংস্থার সফটওয়্যার সিস্টেম ও ব্যবস্থাপনায় বড়সড় ত্রুটি খুঁজে পায়। যাত্রী ভোগান্তির জেরে ইন্ডিগোকে ইতিপূর্বেই ২২.২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সংস্থার ২০ বছরের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।
যদিও এলবার্স তাঁর পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়েছেন, তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে গত কয়েক মাস ধরে চলা কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ এবং পরিষেবার নজিরবিহীন অবনতিই তাঁর বিদায়ের প্রধান কারণ। পদত্যাগপত্রে এলবার্স স্বীকার করে নিয়েছেন যে, গত ২৯ জানুয়ারির উড়ান বিপর্যয় সংস্থার ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে। আপাতত রাহুল ভাটিয়ার নেতৃত্বে ইন্ডিগো তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।