পৃথিবীর অভিমুখে নাসার অচল স্যাটেলাইট, মহাকাশ গবেষণায় নতুন উদ্বেগ

নাসার ১৪ বছরের পুরোনো গবেষণা স্যাটেলাইট ‘ভ্যান অ্যালেন প্রোব-এ’ প্রায় ২৮,৯৬৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ধেয়ে আসছে। ২০১২ সালে বিকিরণ বলয় পর্যবেক্ষণের জন্য এটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, যা ২০১৯ সালে জ্বালানি ফুরিয়ে অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে মহাকর্ষীয় বল ও বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের প্রভাবে এটি কক্ষপথ চ্যুত হয়ে পৃথিবীর দিকে নেমে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রচণ্ড ঘর্ষণে স্যাটেলাইটটির অধিকাংশ অংশ জ্বলে ছাই হয়ে যাবে। কিছু শক্ত অবশিষ্টাংশ ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তাতে জনমানসের ক্ষতির ঝুঁকি অত্যন্ত ক্ষীণ। পৃথিবীর সিংহভাগ অংশ জলবেষ্টিত হওয়ায় এই ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছে নাসা ও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
এই ঘটনাটি মহাকাশে জমে থাকা ক্রমবর্ধমান আবর্জনা বা ‘স্পেস জাঙ্ক’ নিয়ে পুনরায় দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে কক্ষপথে কয়েক হাজার নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরছে, যা সক্রিয় মহাকাশ যানগুলোর জন্য বড় বিপদ হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে বিজ্ঞানীরা এখন মহাকাশের বর্জ্য অপসারণের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছেন।