পেট্রোল ডিজেলের পর এবার আকাশছোঁয়া দাম হবে সাবান সোডা ও ভোজ্য তেলের

পেট্রোল ডিজেলের পর এবার আকাশছোঁয়া দাম হবে সাবান সোডা ও ভোজ্য তেলের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে এবার সাধারণ মানুষের হেঁশেলে টান পড়তে চলেছে। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর এবার এফএমসিজি (FMCG) পণ্য যেমন সাবান, ডিটারজেন্ট এবং ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে শুরু করছে। যার ফলে মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নুভামা ইনস্টিটিউশনাল ইকুইটিজের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক থেকে এফএমসিজি কো ম্পা নিগুলো তাদের পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার অবমূল্যায়ন উৎপাদন খরচ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে কো ম্পা নিগুলোর পক্ষে বর্তমান মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কাঁচামালের দাম যদি বর্তমান স্তরেই বজায় থাকে, তবে আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই পণ্যের দাম অন্তত ৩ থেকে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও বর্তমান মজুত ভাণ্ডারের কারণে ২০২৬ অর্থবর্ষের শেষ প্রান্তিকে এর প্রভাব কিছুটা কম থাকবে, কিন্তু নতুন স্টক বাজারে এলেই সাধারণ মানুষকে বাড়তি টাকা গুনতে হবে। বিশেষ করে পেইন্ট, ভোজ্য তেল এবং প্রসাধন সামগ্রীর ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধির হার আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাধারণত কো ম্পা নিগুলোর কাছে ৩০ থেকে ৪৫ দিনের কাঁচামাল মজুত থাকে। ফলে এই পুরনো স্টক শেষ হওয়ার পর ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ভাগ থেকেই নতুন দাম কার্যকর হতে পারে। কাঁচামালের পাশাপাশি প্যাকেজিংয়ের খরচও কো ম্পা নিগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে প্যাকেজিংয়ের পেছনে, যা সরাসরি তেলের দামের ওপর নির্ভরশীল।

অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় পলিপ্রোপিলিন এবং পলিইথিলিনের মতো পেট্রিওকেমিক্যাল পণ্যের দাম বাড়ছে। এই উপাদানগুলো সাবান বা ডিটারজেন্টের শক্ত প্যাকেজিং তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। টাকার দাম কমতে থাকায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কাঁচামালের খরচও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সব মিলিয়ে আগামী মাসগুলোতে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা আরও ব্যয়বহুল হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *