পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত জোগান নিয়ে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনায় ইতি টানল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, দেশে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অযথা জ্বালানি মজুত না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হলেও, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার বর্তমানে সুরক্ষিত বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে, দেশে জ্বালানির জোগান ও সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস (LPG) এবং পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (PNG) সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্রগুলোতে যাতে গ্যাসের অভাব না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। চাহিদা সামাল দিতে ইতিমধ্যেই দেশের রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে যে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কালোবাজারি বা অবৈধ মজুতদারি করতে না পারে, সেজন্য দেশজুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩,৭০০-রও বেশি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং অনিয়মের অভিযোগে ১,০০০ এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ২৭ জন ডিলারকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘরোয়া সিলিন্ডারের জোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা থাকলেও সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন ও কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, দেশবাসীকে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ প্রতিটি পেট্রোল পাম্প এবং গ্যাস এজেন্সিতে সরবরাহের ধারা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রিফাইনারি থেকে ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট পর্যন্ত বিশেষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।