পোপের শান্তিবর্তায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন ভ্যাটিকান দূতকে কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর অস্থিরতার আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন পোপ লিও চতুর্দশ। পোপের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। সূত্রের খবর, ভ্যাটিকানের মার্কিন দূতকে ডেকে পাঠিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, পোপকে যেন মার্কিন স্বার্থ ও অবস্থানের পক্ষে রাখা হয়।
পোপ বনাম ট্রাম্প সংঘাতের নেপথ্যে
পোপ লিও চতুর্দশ দীর্ঘ সময় ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন এবং আক্রমণাত্মক বিদেশ নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত ৯ জানুয়ারি পোপের দেওয়া একটি বার্ষিক ভাষণকে কেন্দ্র করে।
- পোপ তাঁর ভাষণে বলেন যে বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ আবারও ‘জনপ্রিয়’ হয়ে উঠছে।
- তিনি সতর্ক করেন যে ঐকমত্য-ভিত্তিক কূটনীতি এখন কেবল সামরিক শক্তির কূটনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।
- পোপের এই মন্তব্য সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশ নীতিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
ভ্যাটিকান দূতকে হুঁশিয়ারি ও সামরিক দাপট
পোপের এই শান্তিবর্তা ভালোভাবে নেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। ভ্যাটিকানের দূতকে তলব করে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুদ্ধের এই আবহে ভ্যাটিকান যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলী অবস্থানকে সমর্থন করে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার এক বিরল ও প্রকাশ্য সংঘাত।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের কড়া অবস্থান
পোপ যখন শান্তির কথা বলছেন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের ময়দানে আরও আক্রমণাত্মক। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।
- ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রণতরী ইরানের সন্নিকটেই অবস্থান করবে।
- ইরান যদি চুক্তির সামান্যতম বরখেলাপ করে, তবে দেশটিতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
- ইজরায়েল ও আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে লেবাননের কোনো উল্লেখ নেই। ফলে সেখানে ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকবে।
লেবাননে মানবিক বিপর্যয় ও কূটনৈতিক সংকট
বুধবার লেবাননে ইজরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন যে লেবাননে হামলা না করার কোনো প্রতিশ্রুতি আমেরিকা দেয়নি। এই অনমনীয় অবস্থান পোপের শান্তির আবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত, যা ভ্যাটিকান ও হোয়াইট হাউসের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।