“পোপ লিও আসলে ‘দুর্বল’, ওর তো ওখানেই থাকা উচিত নয়!”—ট্রাম্পের বিস্ফোরক আক্রমণ

ইরান যুদ্ধ এবং বর্তমান ভূ-রাজনীতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে পোপ লিও-র বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পোপের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। ভ্যাটিকান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি পোপের সমালোচনা করে বলেন, পোপ লিও অপরাধ দমনে যেমন ব্যর্থ, তেমনি বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও তার অবস্থান অত্যন্ত নড়বড়ে। ট্রাম্পের মতে, পোপ মার্কিন প্রশাসনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, যা ভিত্তিহীন।
পোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগের কারণ
পোপ লিও-র কিছু সুনির্দিষ্ট অবস্থানের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- ইরান ও পরমাণু ইস্যু: ট্রাম্প এমন কোনো পোপকে সমর্থন করতে রাজি নন, যিনি ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকাকে যুক্তিসঙ্গত মনে করেন।
- ভেনেজুয়েলা নীতি: ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার হস্তক্ষেপ নিয়ে পোপের নেতিবাচক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক এবং দাগি অপরাধীরা আমেরিকায় ঢুকে পড়ছে, যা বন্ধ করা তার দায়িত্ব।
- করোনা আমলের বৈষম্য: ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, মহামারির সময় যখন গির্জার ভেতরে বা বাইরে সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রার্থনা করার সময়ও যাজকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল, তখন পোপ কোনো প্রতিবাদ করেননি।
ভ্যাটিকান বনাম হোয়াইট হাউস
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, লিও পোপ নির্বাচিত হওয়া ছিল একটি বড় চমক। এমনকি পোপ হওয়ার সম্ভাব্য কোনো তালিকায় তার নাম ছিল না। ট্রাম্পের মতে, কেবল আমেরিকান হিসেবেই তাকে এই পদে বসানো হয়েছে যাতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। তিনি মনে করেন, তিনি ক্ষমতায় না থাকলে লিও পোপ হতে পারতেন না।
ট্রাম্পের পরামর্শ, পোপের উচিত বামপন্থীদের খুশি করার চেষ্টা বাদ দিয়ে একজন সফল ধর্মগুরু হওয়া এবং রাজনীতির চেয়ে চার্চের মঙ্গলের দিকে বেশি নজর দেওয়া। এই সময় তিনি পোপের ভাই লুইয়ের প্রশংসা করে বলেন যে, লুই ট্রাম্পের ‘মাগা’ (MAGA) দর্শনের সমর্থক এবং বাস্তববাদী।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণ
একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপ্রধানের এমন নজিরবিহীন আক্রমণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে ট্রাম্প নিজের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে অটল থাকতে চাইছেন, অন্যদিকে পোপের উদারনৈতিক অবস্থান ক্যাথলিক বিশ্বের মধ্যে মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত তার কঠোর বিদেশ নীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সাফল্যকে জাহির করারই একটি প্রয়াস।
একঝলকে
- পোপ লিও-কে ‘দুর্বল’ এবং ‘অযোগ্য’ বলে আক্রমণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে পোপের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
- ট্রাম্পের দাবি, কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সামলানোর জন্য লিও-কে পোপ বানানো হয়েছে।
- পোপের ভাই লুই ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শের সমর্থক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
- ধর্মগুরুদের রাজনীতির বদলে আধ্যাত্মিক কাজে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।