প্রতিরক্ষা রফতানিতে ভারতের ঐতিহাসিক উল্লম্ফন, ৩৮ হাজার কোটি ছাড়াল আয়

বিশ্বের দরবারে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে ভারত ৩৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিদেশে রফতানি করেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের এই অভাবনীয় সাফল্যকে দেশের ক্রমবর্ধমান দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতার বলিষ্ঠ প্রমাণ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকা, যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগের অর্থবর্ষে এই রফতানির পরিমাণ ছিল ২৩,৬২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভারত ১৪,৮০২ কোটি টাকা বা প্রায় ৬২.৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রফতানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের এই রূপান্তর আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ভারতের এই বিশাল সাফল্যের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছে আকাশ ও ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং হালকা যুদ্ধবিমান তেজস। এছাড়াও আরও বেশ কিছু উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ভারত এখন প্রতিরক্ষা উৎপাদনের অন্যতম বিশ্বকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে এক নতুন সাফল্যের কাহিনি লিখছে।
এই রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেরই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মোট রফতানির ৫৪.৮৪ শতাংশ এসেছে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি থেকে এবং বাকি ৪৫.১৬ শতাংশ অবদান রেখেছে বেসরকারি ক্ষেত্র। আর্থিক মূল্যে সরকারি খাতের অবদান ২১,০৭১ কোটি টাকা এবং বেসরকারি খাতের অবদান ১৭,৩৫৩ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।
বর্তমানে ভারত বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে তাদের উৎপাদিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য অনুযায়ী ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা রফতানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, এই পরিসংখ্যান তারই বাস্তব প্রতিফলন। রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত অংশীদারদের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ভারতের এই জয়যাত্রা আগামী দিনে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।