প্রথম বার কোর্ট কক্ষে মোবাইল!

সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বিচারকক্ষ। খোদ দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন এজলাসের ভেতরে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে প্রবেশ করেন। বিচার প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে তাঁর এই পদক্ষেপ আইনি মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তবে এই বিশেষ আচরণের নেপথ্যে একটি সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক কারণ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি এদিন স্পষ্ট জানান যে, আদালত কক্ষে তিনি প্রথমবারের মতো মোবাইল ফোন নিয়ে এসেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য। আপিল ট্রাইব্যুনালগুলোতে অফলাইন নথি বা ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীদের কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করছে শীর্ষ আদালত।
আদালত কক্ষে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তাঁর মোবাইল ফোনে প্রাক্তন বিচারপতি শিবজ্ঞানমের পাঠানো একটি বিশেষ চিঠি রয়েছে। ওই চিঠিতে আপিল প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত শুনানি বা পার্সোনাল হিয়ারিং ঠিক কীভাবে সম্পন্ন করা হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে।
বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করতে এবং নথি জমা দেওয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রধান বিচারপতি কড়া অবস্থান নিয়েছেন। রসিদ না দেওয়ার মতো ঘটনা কেন ঘটছে এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রশাসনিক স্তরের এই গাফিলতি দূর করতে আদালত দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী।
সুপ্রিম কোর্টের অন্দরে এই ঘটনাটি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। বিচার বিভাগীয় কাজের গতি বাড়াতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে প্রধান বিচারপতির এই আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসংশিত হচ্ছে। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এই শুনানি থেকে।
নথি জমাদান থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত শুনানির প্রতিটি স্তর যাতে স্বচ্ছ থাকে, তা নিশ্চিত করাই সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান লক্ষ্য। প্রধান বিচারপতির এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল নথিপত্র এবং স্বচ্ছতার গুরুত্বকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করল। মামলার পরবর্তী স্তরে এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।