প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে কোচবিহারে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

রাজ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে তাঁর জনসভার প্রস্তুতির ঠিক আগের রাতেই জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও কার্তুজ। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ চ্যাংড়াবান্ধা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যাদের কাছ থেকে ৬টি দেশি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত আড়াইটে নাগাদ মেখলিগঞ্জের দিক থেকে অস্ত্র নিয়ে আসার সময় ওই দুই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের আটক করা হয়। ধৃতদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং এই অস্ত্র কেন আনা হচ্ছিল বা এর পেছনে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে এই অস্ত্র উদ্ধার প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মালদহের মালতীপুর এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের সামনে আচমকাই একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। শনিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী যখন হেলিকপ্টারে ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন এই ঘটনায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নিজেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। যদিও ধৃতদের কাছে বৈধ নথিপত্র ছিল বলে জানা গিয়েছে, তবুও কেন স্পর্শকাতর মুহূর্তে ড্রোন ওড়ানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পরপর ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে একদিকে অস্ত্রের হদিস পাওয়া এবং অন্যদিকে ড্রোন আতঙ্ক—সব মিলিয়ে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ফাঁকফোকর না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।