প্রবাসীদের জন্য সুখবর, দ্বিগুণ হচ্ছে ৫ কেজির ছোট রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান

বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মাঝেও দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে যে, রাজ্যগুলিতে ৫ কেজির ‘ফ্রি ট্রেড এলপিজি’ (FTL) বা ছোট সিলিন্ডারের দৈনিক জোগান দ্বিগুণ করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও স্বল্প আয়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে সহজে রান্নার জ্বালানি পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমান এই সিদ্ধান্তের ফলে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দৈনিক বিক্রি ১ লক্ষ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সিলিন্ডারগুলি রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) এই বিতরণ প্রক্রিয়ায় রাজ্যগুলিকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছোট গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদায় ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৫ মার্চ যেখানে দৈনিক ৩৭ হাজার সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছিল, ৪ এপ্রিলের মধ্যে তা ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ২৩ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ৬.৬ লক্ষ ৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। এই সুবিধার বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতন করতে তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে ২৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৫৫০টিরও বেশি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করেছে।
বর্তমানে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজি-র প্রায় ৬০ শতাংশ পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করে। এই সংকট মোকাবিলায় ভারত তার অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন বাড়িয়ে প্রতিদিন ৪৬-৪৭ হাজার টনে উন্নীত করেছে। আমদানির বিকল্প হিসেবে আমেরিকা, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ৮ লক্ষ টন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে কেন্দ্র।
সরকারের এই তৎপরতা মূলত সাধারণ গৃহস্থালি, হাসপাতাল এবং বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংকটের হাত থেকে বাঁচাতে গ্রহণ করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে যাতে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেজন্যই আগাম এই জোগান বৃদ্ধির পরিকল্পনা। এর ফলে খোলা বাজারে ছোট সিলিন্ডারের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।