প্রশাসনিক রদবদলে কমিশনের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, পাল্টা হুঁশিয়ারি কুণাল ঘোষের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে সরিয়ে তাঁদের পদে যথাক্রমে দুষ্মন্ত নারিয়ালা ও সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজিপি পীযূষ পান্ডে এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও অপসারিত করা হয়েছে। নতুন ডিজিপি হিসেবে সিদ্ধিনাথ গুপ্তা ও পুলিশ কমিশনার পদে অজয় নন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের এই পদক্ষেপকে বিজেপির ‘আতঙ্ক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, প্রশাসনিক স্তরে যা খুশি বদলানো হলেও বাংলার মানুষের মন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বদলানো আসাম্ভব। কুণাল ঘোষের দাবি, তৃণমূল এবার ২৫০-র বেশি আসন জিতে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরবে। বিগত নির্বাচনে আট দফায় ভোট হলেও এবার ২৩ ও ২৯ এপ্রিল মাত্র দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে, যার ফল ঘোষণা ৪ মে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের এই ধরনের রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে শীর্ষ আমলা ও পুলিশকর্তাদের আকস্মিক অপসারণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাগযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। অপসারিত আধিকারিকদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা যাবে না বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক রদবদল ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সরগরম গোটা রাজ্য।