প্রশিক্ষণের সময় চোট পাওয়া ক্যাডেটদের কি প্রাক্তন সৈনিকের মর্যাদা দেওয়া সম্ভব, সুপ্রিম কোর্টের বড় প্রশ্ন কেন্দ্রকে

প্রশিক্ষণ চলাকালীন শারীরিক অক্ষমতা বা চোটের কারণে অযোগ্য ঘোষিত হওয়া সামরিক ক্যাডেটদের ‘প্রাক্তন সৈনিক’ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ক্যাডেটদের একটি বড় অংশই ৩০ বছরের কম বয়সী। তাঁদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত আসনের সুবিধা দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলার শুনানি করছে। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এন ভেঙ্কটরামনকে এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বেঞ্চের মতে, জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি (এনডিএ) বা ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি (আইএমএ)-র মতো প্রতিষ্ঠানে কঠোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হওয়া মেধাবী তরুণদের কেবল এককালীন সাহায্য দিয়ে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের জন্য গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স বা বিমা কভারেজের ব্যবস্থা করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে প্রশিক্ষণ চলাকালীন দিব্যাঙ্গ হওয়া ক্যাডেটদের ৪০ হাজার টাকা এককালীন অনুদান দেওয়া হয়, যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত নগণ্য বলে মনে করছে আদালত। তথ্যানুযায়ী, ১৯৮৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ক্যাডেট প্রশিক্ষণের সময় বিভিন্ন মাত্রার শারীরিক অক্ষমতার কারণে সামরিক বাহিনী থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রকে দ্রুত একটি ইতিবাচক ও কার্যকর সমাধান সূত্র বের করার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।