প্রাচীন মেসোপটেমিয়া থেকে আধুনিক কোয়ার্টজ, সময়ের বিবর্তনের ইতিহাস

প্রাচীন মেসোপটেমিয়া থেকে আধুনিক কোয়ার্টজ, সময়ের বিবর্তনের ইতিহাস

আদিম যুগে মানুষ চাঁদ, সূর্য ও ঋতু পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে সময়ের খসড়া হিসেব করত। তবে সময়ের সুনির্দিষ্ট বিভাজনের সূচনা হয় প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায়, যেখানে খ্রিস্টপূর্ব ৪১০০ থেকে ১৭৫০ অব্দের মধ্যে দিনকে ২৪ ঘণ্টা এবং ঘণ্টাকে ৬০ মিনিটে ভাগ করার কৌশল আয়ত্ত করা হয়। পরবর্তীতে মিশরীয়রা জলঘড়ি ও সূর্যঘড়ির মাধ্যমে এই হিসেবকে আরও স্পষ্ট করে, যদিও ঋতুভেদে তাদের ঘণ্টার দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হতো।

মধ্যযুগে যান্ত্রিক ঘড়ির প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে ইউরোপীয় চার্চের নির্ধারিত প্রার্থনার সময় বজায় রাখতে। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি আবির্ভুত হলেও তা ছিল অভিকর্ষ নির্ভর এবং হিসেবে কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ। সময়ের এই বিবর্তনে আরব ও চীনের অবদানও অনস্বীকার্য; ১০৮৮ খ্রিস্টাব্দে চীনে জলশক্তি চালিত জ্যোতির্বিজ্ঞানসম্মত ঘড়ি এবং আরবে গিয়ারচালিত যন্ত্রের উদ্ভাবন সময়ের পরিমাপকে আরও উন্নত করেছিল।

১৬৫৬ সালে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইজেনস পেন্ডুলাম ঘড়ি আবিষ্কার করলে সময়ের হিসেবে আমূল পরিবর্তন আসে এবং নির্ভুলতা বৃদ্ধি পায়। এরপর পর্যায়ক্রমে কোয়ার্টজ ও পারমাণবিক ঘড়ির উদ্ভাবন সময়কে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। আদিম পর্যবেক্ষণ থেকে আধুনিক স্মার্টওয়াচ—সময়ের এই দীর্ঘ পথচলা আসলে মানুষের নিরন্তর কৌতূহল এবং বিজ্ঞানের জয়যাত্রার এক অনন্য দলিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *