ফলের দুনিয়ার কোহিনূর মিয়াজাকি আমের আকাশছোঁয়া দাম ও বিশেষত্ব

আমকে ফলের রাজা বলা হলেও বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম ‘মিয়াজাকি’র কথা শুনলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। জাপানের মিয়াজাকি শহরে উৎপাদিত এই বিরল প্রজাতির আম তার অনন্য মিষ্টতা, মোহময় সুগন্ধ এবং টকটকে লাল রঙের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক বাজারে এই আমের প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকাশছোঁয়া দামের কারণে এই ফলটি ‘এগস অফ দ্য সান’ বা ‘সূর্যের ডিম’ নামেও পরিচিত।
মিয়াজাকি আমের এই আকাশচুম্বী দামের পেছনে প্রধান কারণ হলো এর চাষাবাদের অত্যন্ত জটিল পদ্ধতি ও কঠোর গুণমান নিয়ন্ত্রণ। চাষের সময় প্রতিটি আমের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল দৃষ্টি রাখা হয়। এই ফলগুলোকে সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে রেখে বড় করা হয়, যার ফলে প্রাকৃতিকভাবেই এগুলি গাঢ় লাল বা বেগুনি রঙের হয়ে ওঠে। প্রতিটি আম কমপক্ষে ৩৫০ গ্রাম ওজনের হতে হয় এবং এতে শর্করার পরিমাণ ১৫ শতাংশ বা তার বেশি থাকা বাধ্যতামূলক।
এই আমের চাষের বিশেষ প্রযুক্তিও একে অনন্য করে তুলেছে। জাপানের মিয়াজাকি প্রদেশের অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদিত এই ফলগুলোকে জালের সাহায্যে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ফলগুলো পাকার পর যাতে সরাসরি মাটিতে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং সূর্যের আলো ফলের প্রতিটি অংশে সমানভাবে পৌঁছাতে পারে। অত্যন্ত সীমিত উৎপাদনের কারণে এই আম সাধারণ ফলের তালিকা ছাড়িয়ে বিলাসবহুল উপহার হিসেবে গণ্য হয়।
ভারতে এক কেজি মিয়াজাকি আমের দামে অনায়াসেই একটি নতুন স্পোর্টস বাইক বা ভালো মানের পুরনো গাড়ি কেনা সম্ভব। কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখার কারণে সব আম ‘মিয়াজাকি’ ব্র্যান্ডের নাম পায় না। শুধুমাত্র সেরা মানের ফলগুলোই বাজারে রপ্তানি করা হয়। এর অসাধারণ স্বাদ এবং দুষ্প্রাপ্যতা একে সারা বিশ্বের ধনকুবেরদের কাছে একটি কাঙ্ক্ষিত বস্তুতে পরিণত করেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, উন্নত প্রযুক্তি, নিবিড় পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মেলবন্ধন হলো এই মিয়াজাকি আম। যদিও এটি সাধারণের নাগালের বাইরে, তবুও এর চাষ পদ্ধতি এবং বিশ্ববাজারে এর চাহিদা কৃষিবিজ্ঞানে এক বিস্ময় হিসেবে চিহ্নিত। বর্তমানে জাপান ছাড়াও বিশ্বের আরও কিছু প্রান্তে পরীক্ষামূলকভাবে এর চাষ শুরু হলেও মিয়াজাকির আসল আভিজাত্য আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।