ফের আকাশে ডানা মেলছে বায়ুসেনার ভরসা তেজস, চলতি সপ্তাহেই পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরুর সম্ভাবনা

ফের আকাশে ডানা মেলছে বায়ুসেনার ভরসা তেজস, চলতি সপ্তাহেই পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরুর সম্ভাবনা

এক মাসেরও বেশি সময়ের অপেক্ষা শেষে ফের ওড়ার ছাড়পত্র পেল ভারতীয় বায়ুসেনার দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট তেজস। বৃহস্পতিবার হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (HAL) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডি কে সুনীল নিশ্চিত করেছেন যে, লোকাল মডিফিকেশন কমিটি পর্যালোচনার পর বিমানগুলোকে পুনরায় মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বুধবারের মধ্যেই ৩৬টি বিমানের চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিটি বিমানের জন্য আবশ্যিক এককালীন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্যাল এবং ভারতীয় বায়ুসেনার যৌথ তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল ও প্রতিরোধমূলক পরিদর্শন সম্পন্ন হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত বিমানের যান্ত্রিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা মানদণ্ডগুলো পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই ধাপে ধাপে তেজসকে সক্রিয় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হবে।

এই ছাড়পত্রের ফলে বায়ুসেনার ৪৫ নম্বর স্কোয়াড্রন ফ্লাইং ড্যাগারস এবং ১৮ নম্বর স্কোয়াড্রন ফ্লাইং বুলেটস পুনরায় তাদের পূর্ণ শক্তি ফিরে পাচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধবিমান কর্মসূচি দ্রুত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হল। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রশিক্ষণ চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তেজস দুর্ঘটনার কবলে পড়লে বিমানটি সাময়িকভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, অবতরণের সময় ব্রেক কাজ না করায় সেই দুর্ঘটনায় পাইলট শেষ মুহূর্তে প্যারাসুটের সাহায্যে প্রাণ রক্ষা করেন। ওই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ৩০টি এক আসন বিশিষ্ট তেজস যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করে বায়ুসেনা। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং বিশেষজ্ঞ দলের সবুজ সংকেত মেলার পর অবশেষে ভারতের এই নির্ভরযোগ্য আকাশপথের রক্ষক ফের আকাশে ওড়ার জন্য প্রস্তুত।

ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তেজস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ৮৩টি বিমান তৈরির বরাত দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে আরও ৯৭টি তেজসের অর্ডার দেওয়া হয়। বর্তমানে পুনরায় এই যুদ্ধবিমানগুলো মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে আকাশপথে শত্রুপক্ষকে মোকাবিলার পথ সুগম করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *