ফের কি বিশ্বজুড়ে লকডাউন? ইরান যুদ্ধের আবহে চরম জ্বালানি সংকটে কাঁপছে ভারতসহ একাধিক দেশ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত থমকে গিয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালী। এই রুট দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। বর্তমানে পথটি রুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দামের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। শুধু পরিবহণ নয়, সার আমদানিতে বাধা আসায় খাদ্য নিরাপত্তাও এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
থমকে যাচ্ছে বিমান পরিষেবা ও যাতায়াত
জ্বালানি বাঁচাতে ইতিমধ্যেই ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সসহ বিশ্বের একাধিক বড় বিমান সংস্থা তাদের উড়ান সংখ্যা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। অনেক দেশই এখন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে করোনাকালের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
রেশনিং ব্যবস্থা ও আইইএ-র কড়া দাওয়াই
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ফিলিপিন্সে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তেলের রেশনিং। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় পেট্রোল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন নিত্যদিনের চিত্র। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছে যা প্রকারান্তরে ‘লকডাউন’-এরই নামান্তর।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যে ৭টি নির্দেশিকা
- বিজোড়-জোড় নীতি: ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বের করার ক্ষেত্রে অল্টারনেট দিন বেছে নেওয়া।
- গতি নিয়ন্ত্রণ: হাইওয়েতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা কমিয়ে আনা।
- ভ্রমণ হ্রাস: সম্ভব হলে বিমান সফর এবং অহেতুক ঘোরাফেরা বন্ধ করা।
- বিকল্প শক্তি: রান্নার ক্ষেত্রে গ্যাসের বদলে বৈদ্যুতিক স্টোভ ব্যবহার।
- ওয়ার্ক ফ্রম হোম: ফের অফিস নয়, বাড়ি থেকে কাজের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা।
- গণপরিবহণ: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে বাস বা ট্রেনের ব্যবহার বাড়ানো।
- বাণিজ্যিক দক্ষতা: পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে আরও পরিকল্পিতভাবে চালানো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারগুলি একে সরাসরি ‘লকডাউন’ না বলে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ বললেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব হবে ঠিক কোভিডের মতোই। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্ব ফের এক দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থবিরতার দিকে এগোচ্ছে।