ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

ফৌজদারি মামলা থাকা প্রার্থীদের নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহারের কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

রাজ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যে সমস্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে কিংবা যারা বর্তমানে জামিন বা প্যারোলে মুক্ত রয়েছেন, তাদের সরকারি নিরাপত্তারক্ষী দ্রুত প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলা পুলিশ এবং কমিশনারেটকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে কমিশন। মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কমিশনের এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত প্রার্থীরা কোনোভাবেই আর সরকারি নিরাপত্তা বলয়ে থাকতে পারবেন না। তবে মানবিক ও নিরাপত্তার খাতিরে একটি বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। যদি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জীবনের ঝুঁকি বা প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট কোনো আশঙ্কা (Life Threat) থাকে, তবেই তিনি এই নির্দেশের আওতার বাইরে থাকবেন। এই নির্দেশ কার্যকর করার পাশাপাশি এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্টও রাজ্যকে দ্রুত জমা দিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন।

সাধারণত নির্বাচনের সময় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করে রাজ্য সরকার। সেই প্রথা অনুযায়ী প্রার্থীর অতীত রেকর্ড বা অপরাধমূলক কার্যকলাপ বিচার করা হয় না। কিন্তু মালদহের কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হেনস্থার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পর তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন সেই বৈঠকেই মূলত বাংলার জন্য এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাসহ দেশের একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট চললেও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বঙ্গে ভোট পরবর্তী কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং আইনি জটিলতা নিরসনে বদ্ধপরিকর কমিশন। সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রার্থীর নিরাপত্তা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নির্বাচনকে কলঙ্কমুক্ত রাখাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *