ফ্লিপকার্টের বড়সড় লস! নষ্ট ট্যাবলেট গছিয়ে দিতে গিয়ে এখন গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানা

ফ্লিপকার্টের বড়সড় লস! নষ্ট ট্যাবলেট গছিয়ে দিতে গিয়ে এখন গুণতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানা

অনলাইন শপিং জায়ান্ট ফ্লিপকার্টের ওপর মেজাজ হারালো কনজিউমার কোর্ট। লেনেভো ট্যাবলেট কিনে প্রতারিত হওয়া এক গ্রাহকের করা মামলায় কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হলো কো ম্পা নিটিকে। সেবার ঘাটতি এবং নিজস্ব নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফ্লিপকার্টকে এখন রিফান্ড ও জরিমানাসহ বড় অংকের টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পুরো ঘটনাটি ঠিক কী?

ঘটনাটি দিল্লির বিকাশপুরীর বাসিন্দা রাজীব মহায়ের। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ফ্লিপকার্ট থেকে ১০,৯৯৯ টাকায় একটি ‘Lenovo Tab M10’ অর্ডার করেছিলেন। ডেলিভারি পাওয়ার পরেই দেখা যায় ট্যাবলেটটির ডিসপ্লে নষ্ট এবং সেটি মোটেও কাজ করছে না। সাথে সাথেই অভিযোগ জানানো হলে ফ্লিপকার্টের টেকনিশিয়ান এসে ডিভাইসটি ত্রুটিপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেন। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, নিজেদের ‘৩০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি’ থাকা সত্ত্বেও কো ম্পা নিটি পণ্যটি ফেরত নিতে অস্বীকার করে।

আদালতে ফ্লিপকার্টের সাফাই

শুনানি চলাকালীন ফ্লিপকার্ট দাবি করে যে তারা কেবল একটি ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ বা মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্ম এবং পণ্যটি অন্য এক বিক্রেতার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এমনকি গ্রাহকের ভুলেই ট্যাবলেটটি নষ্ট হয়েছে বলেও দায় চাপানোর চেষ্টা করে তারা। কিন্তু ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার ডিসপিউটস রিড্রেসাল ফোরামের সভাপতি সোনিকা মেহরোত্রা এই যুক্তি খারিজ করে দেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, ফ্লিপকার্ট তাদের নিজস্ব পলিসি অমান্য করেছে। এমনকি শুনানির সময় কো ম্পা নি ১৫,০০০ টাকার সেটেলমেন্টের টোপ দিলেও গ্রাহক তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ভোক্তা আদালতের চূড়ান্ত রায়

১২ মার্চের রায়ে আদালত ফ্লিপকার্টকে ‘সেবায় চরম গাফিলতির’ জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং নিম্নলিখিত নির্দেশগুলো দিয়েছে—

  • পুরো টাকা ফেরত: গ্রাহককে ট্যাবলেটের দাম বাবদ ১০,৯৯৯ টাকা ফেরত দিতে হবে।
  • মানসিক হয়রানির জরিমানা: হয়রানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫,০০০ টাকা দিতে হবে।
  • মামলার খরচ: আইনি লড়াইয়ের খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৪,০০০ টাকা দিতে হবে।

আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই সমস্ত নির্দেশ পালন করতে হবে ফ্লিপকার্টকে। এই রায় অনলাইন ক্রেতাদের অধিকার রক্ষায় এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *