বইয়ের অভাবে অনিশ্চয়তায় পরীক্ষা, দু’সপ্তাহে তিন মাসের সিলেবাস শেষের চ্যালেঞ্জ

এপ্রিলে নির্ধারিত সামেটিভ পরীক্ষা ঘনিয়ে এলেও রাজ্যের বহু উচ্চ প্রাথমিক পড়ুয়া এখনও পাঠ্যপুস্তক হাতে পায়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জানুয়ারির ‘বই দিবসেই’ সব বই পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও, তিন মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রকট হয়েছে বইয়ের আকাল। ষষ্ঠ শ্রেণির ভূগোল বা অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বই না পেয়ে সংকটে পড়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনেক স্কুল পুরনো বইয়ের ফটোকপি বা খাতায় লিখিয়ে পঠনপাঠন সচল রাখার চেষ্টা করছে। প্রধান শিক্ষকদের দাবি, মার্চ মাসের মাঝামাঝি এসেও বই না মেলায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্ধারিত তিন মাসের বিশাল পাঠ্যক্রম মাত্র দুই সপ্তাহে শেষ করা আসাম্ভব। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ফল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
জেলা স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষা দফতর অবশ্য এই সমস্যার কথা স্বীকার করে দ্রুত বই পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাদের দাবি, অধিকাংশ বই ইতিমধ্যেই স্কুলে পৌঁছেছে এবং অবশিষ্ট বইগুলোও দ্রুত সরবরাহ করা হবে। তবে শিক্ষামহলের প্রশ্ন, তিন মাস বিলম্বের পর এই আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে এবং শিক্ষার্থীরা আদৌ সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারবে কি না।