বকেয়া খোরপোশ না দিয়েও জেল থেকে মুক্তি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে স্বামী

বকেয়া খোরপোশ না দিয়েও জেল থেকে মুক্তি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে স্বামী

স্ত্রীর খোরপোশের টাকা মেটাতে না পেরে দীর্ঘ ২২ মাস কারাদণ্ডের সাজা পাওয়া এক ব্যক্তিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। ঝাঁসির ফ্যামিলি কোর্টের দেওয়া আগের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনের ভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন বিচারপতি প্রবীণ কুমার গিরি। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের একটি সিভিল জেলে বন্দি থাকা ওই ব্যক্তির নাম তাহির ওরফে বাবলু। আদালতের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘ কারাবাসের পর তাঁর মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ মাসের বকেয়া খোরপোশ বাবদ ২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন তাহিরের স্ত্রী। ওই টাকা দিতে আসামর্থ হওয়ায় জালৌন পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। ফ্যামিলি কোর্টে তাহির নিজেকে দরিদ্র বলে দাবি করে সাজা কমানোর আবেদন জানালেও আদালত তাঁকে বকেয়া প্রতি মাসের জন্য এক মাস করে মোট ২২ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। ২০১৫ সাল থেকে তিনি জেল খাটছিলেন।

নিম্ন আদালতের এই কঠোর রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাহির। উচ্চ আদালতে তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১২৫(৩) ধারা অনুযায়ী, খোরপোশ দিতে ব্যর্থ হলে কোনো ব্যক্তিকে এক মাসের বেশি সিভিল জেলে রাখা আইনত সঠিক নয়। এছাড়া বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান থাকলেও কারাবাসের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই আইনি যুক্তিতে সায় দিয়ে আদালত ব্যক্তিকে জেল থেকে ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

বিচারপতি তাঁর আদেশে স্পষ্ট জানান যে, আবেদনকারী যেহেতু সিভিল জেলে রয়েছেন, তাই মুক্তির জন্য তাঁকে কোনো বেল বন্ড বা জামিননামা জমা দিতে হবে না। হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে (কমপ্লায়েন্স) দ্রুত এই নির্দেশ জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত বন্দি মুক্তি পায়। আইনি জটিলতায় দীর্ঘ সময় জেলে কাটানো ব্যক্তির জন্য হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইলাহাবাদ হাইকোর্ট এই মামলায় তাহিরের স্ত্রীর প্রতি একটি নোটিশ জারি করেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আদালত আগামী ১৮ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। আপাতত আইনি অধিকারের দোহাই দিয়ে দীর্ঘ কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেলেন ওই স্বামী, যা নিয়ে স্থানীয় ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *