বকেয়া ডিএ ও ২০২৬-এর নির্বাচন, সরকারি কর্মীদের মন জয়ে বিজেপির বড় বাজি

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মহার্ঘ ভাতা (DA) ইস্যুকে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানো এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের একটি বড় অংশ বর্তমান রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ থাকায় এই সুপরিকল্পিত প্রতিশ্রুতি ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ২২ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, যেখানে কেন্দ্রীয় হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বিশাল বৈষম্য এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। শিক্ষক থেকে শুরু করে পুলিশ ও সাধারণ সরকারি কর্মচারী—এই বিশাল জনমত গঠনকারী গোষ্ঠীকে কাছে টানতে বিজেপি এখন বকেয়া মেটানোকে ‘আইনি অধিকার’ হিসেবে তুলে ধরছে, যা শাসক দল তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাজ্যের বর্তমান ঋণের বোঝা এবং আর্থিক সংকটের নিরিখে মাত্র দেড় মাসে কয়েক হাজার কোটি টাকা মেটানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ এবং অন্যদিকে বিজেপির নির্দিষ্ট সময়সীমার প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে বকেয়া ডিএ এখন বাংলার নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যার প্রভাব ব্যালট বক্সে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।