বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেটাতে কালঘাম ছুটছে প্রশাসনের

বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেটাতে কালঘাম ছুটছে প্রশাসনের

রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনে এবার নয়া মোড়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই কর্মীদের বকেয়া বেতনের অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া এখন নবান্নের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পকেটে ঢুকবে লক্ষ লক্ষ টাকা? দেখে নিন সম্ভাব্য অঙ্ক

কর্মী সংগঠনগুলোর হিসেব অনুযায়ী, আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর হলে বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মচারীরা এককালীন বড় অঙ্কের টাকা পেতে চলেছেন। পদের বিন্যাস অনুযায়ী বকেয়া টাকার পরিমাণ হতে পারে নিম্নরূপ:

  • গ্রুপ ‘এ’ আধিকারিক: উচ্চপদস্থ এই আধিকারিকদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ১৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
  • গ্রুপ ‘বি’ ও প্রাথমিক শিক্ষক: এই স্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া ডিএ-র অঙ্ক প্রায় ৯.৫ লক্ষ টাকা ছোঁয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • গ্রুপ ‘ডি’ কর্মী: চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীদের ক্ষেত্রেও বকেয়া পাওনা হতে পারে প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।

প্রশাসনের সামনে পাহাড়প্রমাণ আর্থিক চাপ

৩১ মার্চের ডেডলাইন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা। কয়েক হাজার কোটি টাকার এই বকেয়া মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাড় করা রাজ্য কোষাগারের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে কর্মী সংগঠনগুলোর তীব্র চাপ। এখন দেখার, সুপ্রিম নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিশাল অঙ্কের টাকা রাজ্য সরকার কীভাবে সংস্থান করে এবং কর্মীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *