বকেয়া নেই তবুও কমছে সিবিল স্কোর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় স্বস্তি পেলেন গ্রাহক

বকেয়া নেই তবুও কমছে সিবিল স্কোর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড় স্বস্তি পেলেন গ্রাহক

ঋণখেলাপী না হওয়া সত্ত্বেও কেন কমছে সিবিল স্কোর? এক ব্যক্তির দায়ের করা পিటిশনের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক এই জটিলতায় হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা রাজেন্দ্র সিং পানওয়ারের করা মামলার প্রেক্ষিতে ব্যাংক ও ঋণ তথ্য প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কোনো ঋণ বকেয়া না থাকা সত্ত্বেও ২০২০ সাল থেকে তাঁর ক্রেডিট স্কোর নেতিবাচক দেখানো হচ্ছিল, যার ফলে আর্থিক পরিষেবা পেতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন তিনি।

আদালতে পানওয়ার জানান, একই নামে অন্য এক ব্যক্তির প্যান কার্ডের তথ্যের সঙ্গে তাঁর তথ্য মিশে যাওয়ার ফলেই এই বিপত্তি। অন্যের ঋণখেলাপের দায় তাঁর ক্রেডিট রেকর্ডে প্রতিফলিত হচ্ছিল। এমনকি নতুন প্যান কার্ড নিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট এসবিআই এবং পিএনবি-র মতো বড় ব্যাংকগুলোর কাছে রিপোর্ট তলব করে। ব্যাংকগুলো হলফনামা দিয়ে জানায় যে, ওই ব্যক্তির নামে কোনো বকেয়া ঋণ নেই।

ব্যাংকগুলোর স্পষ্টীকরণের পর ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল (TransUnion CIBIL) আদালতকে জানায় যে, তারা পানওয়ারের ক্রেডিট রেকর্ড সংশোধন করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর স্বস্তি পেলেন ওই গ্রাহক। এই রায় ভবিষ্যতে ভুল ক্রেডিট স্কোরের কারণে সমস্যায় পড়া কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভুল তথ্যের কারণে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে আর্থিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা এখন বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে দেশে ক্রেডিট স্কোর সম্পর্কে সচেতনতা দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৮.৩ কোটি মানুষ সক্রিয়ভাবে তাদের সিবিল স্কোর ট্র্যাক করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে এদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ মানুষই মেট্রো শহরের বাইরের বাসিন্দা। মানুষ এখন ক্রেডিট স্কোরকে কেবল ঋণের মাধ্যম নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সুস্বাস্থ্যের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছেন। পানওয়ারের এই জয় সাধারণ মানুষের সচেতনতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত তথ্যের নির্ভুলতা এবং ক্রেডিট রিপোর্টের নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত জরুরি। কোনো অসঙ্গতি নজরে এলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেটা ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছে। একই প্যান নম্বর বা নাম বিভ্রাটের মতো কারিগরি ত্রুটি যাতে কারও জীবনযাত্রায় প্রভাব না ফেলে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *