বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নবান্নর, স্বস্তি পাচ্ছেন শিক্ষক ও পুরকর্মীরা

রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মাঝে আশার আলো দেখাল নবান্ন। অর্থ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার গ্রান্ট-ইন-এইড বা অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে দ্রুত তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষক, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মীরা বড়সড় আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন।
সম্প্রতি নবান্নে অর্থ সচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্কুল শিক্ষা, পুর ও নগরোন্নয়ন, পঞ্চায়েত, পরিবহণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়নসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের বিলম্ব বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কর্মকর্তাদের দ্রুত তথ্য যাচাই করে নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া ডিএ নিয়েই এই তোড়জোড়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া আগেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নথিপত্র এবং তথ্য প্রস্তুতির অভাবে অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের টাকা দেওয়া এতদিন আটকে ছিল। এবার সেই জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও গ্রামীণ স্তরের কর্মীদের মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের অসন্তোষ মেটাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
নবান্ন সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মীদের বেতন কাঠামো, কর্মকাল এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ নির্ভুলভাবে পোর্টালের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অর্থ দফতর নিয়মিত এই প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। কর্মকর্তাদের মতে, বিপুল সংখ্যক কর্মীর তথ্য একত্র করা সময়সাপেক্ষ হলেও রাজ্যের কড়া নির্দেশে কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।
কবে নাগাদ এই টাকা কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না করলেও অর্থ দফতর দ্রুততা নিশ্চিত করেছে। শিক্ষক ও পুরকর্মীদের একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার এই সক্রিয়তা রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং প্রশাসনিক স্তরে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।