বক্স অফিসে ‘ন্যারেটিভ পলিটিক্স’ ও দেশপ্রেমের ফর্মুলা: আবেগ নাকি প্রোপাগান্ডা?

বক্স অফিসে ‘ন্যারেটিভ পলিটিক্স’ ও দেশপ্রেমের ফর্মুলা: আবেগ নাকি প্রোপাগান্ডা?

বলিউডের রূপোলি পর্দায় এখন কেবল প্রেম বা অ্যাকশন নয়, বরং চিত্রনাট্যের কেন্দ্রে জায়গা করে নিচ্ছে দেশাত্মবোধ, ইতিহাস এবং নির্দিষ্ট মতাদর্শ। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ থেকে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের ছবিগুলো বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পেলেও উসকে দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। সমালোচকদের একাংশ একে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও, দর্শকদের একাংশের কাছে এগুলো ‘চোখ খুলে দেওয়া’ অভিজ্ঞতা। এই ‘ন্যারেটিভ পলিটিক্স’ বর্তমানে নির্মাতাদের কাছে সাফল্যের এক নতুন ও নিরাপদ ফর্মুলায় পরিণত হয়েছে।

‘উরি’, ‘শেরশাহ’ বা সাম্প্রতিক ‘ধুরন্ধর’-এর মতো ছবিগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে, জাতীয়তাবাদী আবেগ কীভাবে সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। আবার ‘গদর ২’ বা ‘বর্ডার ২’-এর সাফল্য প্রমাণ করে যে দেশভাগ ও সীমান্তের গল্প এখনও বক্স অফিসে অপ্রতিরোধ্য। তবে কেবল দেশপ্রেম থাকলেই যে ছবি সফল হবে তা নয়; ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’-এর মতো উদাহরণ স্পষ্ট করে দেয় যে, দুর্বল চিত্রনাট্য থাকলে দর্শক তা গ্রহণ করে না। অর্থাৎ, আবেগের পাশাপাশি গল্পের বুননও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রবণতার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ইতিহাস বনাম ব্যাখ্যা। ‘তানাজি’ বা ‘পৃথ্বীরাজ’-এর মতো ঐতিহাসিক ছবিগুলো নিয়ে যেমন গর্ব প্রকাশ করা হয়েছে, তেমনি ইতিহাস বিকৃতির প্রশ্নও উঠেছে। বর্তমানে বড় বাজেটের প্রযোজকরা এই ধারার সিনেমাকে ‘সেফ বেট’ হিসেবে দেখছেন কারণ বিতর্কই অনেক সময় দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহমুখী করে। তবে শেষ পর্যন্ত সিনেমার স্থায়িত্ব নির্ভর করে গল্পের গুণমানের ওপর। দর্শক শক্তিশালী আবেগ পছন্দ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রোপাগান্ডার চেয়ে নিটোল গল্পেই বেশি বিশ্বাস রাখতে চায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *